বিশ্ব বাজারে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ভারতীয় বাজারে এই সব প্রোডাক্ট রম রমিয়ে বিক্রি হচ্ছে

 

আমাদের দেশে বিক্রি হয় এমন অনেক জিনিসই আছে যার আমদানির সম্পুর্ণটাই হয় বিদেশ থেকে। সেটা সাবান হোক বা ঔষধ যাই হোক না কেন। ব্যাবসায়িদের কোনো কিছু বিক্রির জন্য খুব সহজ একটি মাধ্যম হল আমাদের দেশ।‌ অন্য দেশে যে সমস্ত জিনিস নিষিদ্ধ, সেইগুলো এখানে খুব সহযেই বিক্রি হয় আর সাধারন মানুষ সেটা জানতেও পারে না। তাহলে আসুন এবার দেখে নেওয়া যাক কোন কোন জিনিসগুলি বিদেশে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ভারতে রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে।

 

লাইফবয় সাবান:

আমরা এই বিজ্ঞাপনটির সাথে সকলেই পরিচিত যেখানে বিজ্ঞাপনে বলে- এই বান্টি তোর সাবান স্লো নাকি?’ আসলে বান্টির সাবান স্লো নয় বরং সেটা আমেরিকাতে নিষিদ্ধ। বিজ্ঞানিরা গবেষণা করে দেখেছেন এই সাবান ব্যবহার করে মানুষের ত্বক খারাপ হয়ে যায় তাই সেটা আমেরিকাতে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে সেই সাবানের বিক্রি রমরমা।

 

কিন্ডার জয় :

চকলেট হল শিশুদের আগাগোরা পছন্দের জিনিস। আর এখন তো কিন্ডার জয় এসে বাচ্চাদের চকলেটের প্রতি আকর্ষণ আরও বেড়ে গেছে। তারপর এর থেকে ছোট ছোট খেলনা পাওয়া যায়। সেগুলো বাচ্চারা খেলতে খুব ভালোবাসে। আর কোম্পানির মালিক এই জিনিসেরই ফায়দা উঠিয়েছে। কিন্তু আপনি কি জানেন এই কিন্ডার জয় চকলেটটি বাচ্চাদের খাওয়ার পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক। তাই আমেরিকা সরকার কিন্ডার জয় খাওয়া এবং তার খেলনা নিয়ে খেলাকে নিষিদ্ধ লাগিয়ে দিয়েছেন।

 

সিঙ্গারা :

সিঙ্গারা হল এমন একটি খাবার যার সাথে আমরা ছোট থেকে পরিচিত। কিন্তু আপনি এটা শুনলে অবাক হবেন যে সিঙ্গারা খাবারটি আমাদের দেশের নয়, আমাদের দেশ শুধু এই খাবারটিকে নিজেদের ভঙ্গিতে বানিয়েছে। সিঙ্গারার উপর সোমালিয়ায় প্রতিবন্ধকতা লাগানো আছে। যার শ্রেয় জিহাদী সংগঠন আল-শাবাবের উপর বর্তায়। আল-শাবাবরা নিজেদের এলাকাতেও সিঙ্গারার উপর প্রতিবন্ধকতা লাগানোর কারণ তারা মনে করেন যে এটি খ্রিস্ট ধর্মের সাথে যুক্ত।

 

রেডবুল :

রেড বুল হল এমন একটি পানীয় যার চাহিদা যুবকদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। কিন্তু এই পানীয় আপনার হার্টকে খারাপ করতে পারে এবং হার্ট এ্যাটাক, ডিপ্রেশন, হাইপার টেনশনের মত রোগও হয়ে যেতে পারে। এই পানিয়টি ফ্রান্স এবং ডেনমার্কে নিষিদ্ধ এবং ১৪ বছরের নিচে কেউ এটি পান করতে পারেন না।

 

ডিসপ্রিন :

এই ওষুধটি খেলে রক্তাল্পতা রোগ দেখা যায় তাই এই ওষুধটি আমেরিকা থেকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং রক্ত থেকে প্লেটলেটস কম করে দেয়। দিল্লি সরকারও এখন এই ওষুধটিকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু এখনো ভারতের অনেক জায়গায় এটি বেশ রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে ।

 

ডিকোল্ড টোটাল :

এই ওষুধটি খুব বিখ্যাত একটি ওষুধ যেটা সর্দি কাশি বা ঠান্ডা লাগা নিরাময়ের জন্য পরিচিত। এই ওষুধটি ভারতে খুবই জনপ্রিয়। এমনকি ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই কিছু কিছু মানুষকে এই ওষুধ সেবন করে থাকেন। কিন্তু এই ওষুধটি যে কত ক্ষতিকারক সেটা কেউ জানেনা। আসলে এই ওষুধটি সেবন করলে কিডনি খারাপ হতে পারে। তাই এই ওষুধটি অন্যান্য সব দেশেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

নিমুলিড:

যদি ভারতে কারুর পেট ব্যাথা হয় তাহলে সবার এই মানসিকতা যে পেনকিলার খেলে পেট ব্যাথা ঠিক হয়ে যাবে। নিমোলিড ভারতে একটি খুবই জনপ্রিয় ওষুধ। তাই পেট ব্যাথা হলেই সাধারণ মানুষ এটি ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু এই ওষুধটি লিভারের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। এতে লিভার খারাপ হতে পারে। এজন্যে এটি আমেরিকা ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মতো বহু দেশেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

পেস্টিসাইড :

পেস্টিসাইড ক্ষেতে ব্যবহার করা হয়। এটি আনাচ যাতে ভাল থাকে সেইজন্যই এই ওষুধটির ব্যবহার করা হয়। বিদেশে ৬৪ পেস্টিসাইড প্রতিবন্ধকতা আছে। কিন্তু ভারতে এখনো এই সমস্ত পেস্টিসাইডের ব্যবহার চলছে।

 

টাটা ন্যানো :

কম দামে চারচাকা গাড়ি হিসেবে টাটা ন্যানোর চাহিদা অনেক দেখা যায় একসময়। কারণ এটি কম দামে বিক্রি হয় আর আজও যাদের বাজেট কম তারা এই গাড়িটি কিনতে পছন্দ করে। গাড়িতে চোট লাগার অনেক সম্ভাবনা বেশি। এই গাড়িটি গ্লোবাল এনসিএপি এর কেস টেস্টে ফেল হয়েগিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাদের দেশে এই গাড়িটি বিক্রি হয়। কিন্তু এই গাড়িটি অন্যান্য সমস্ত দেশে নিষিদ্ধ।

 

মারুতি সুজুকি Alto 800:

দুর্ঘটনার সংখ্যা আমাদের দেশে অন্যান্য দেশের তুলনায় দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। কিন্তু আজও মানুষ এই গাড়িটি কিনে চলেছে। এই গাড়িটি সমস্ত রকম স্পিড টেস্টে ফেল হয়েছে।‌ এই গাড়িটি আপনাকে আরাম দেবে কিন্তু সুরক্ষা দেবে না।‌ কিন্তু আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয় এই গাড়িটি।‌ এই কারণেই অন্যান্য সমস্ত দেশে এই গাড়িটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবছরই এই গাড়িটি কেনার সংখ্যা আমাদের দেশে বেড়ে চলেছে।

Post a Comment

0 Comments